সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
 সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সাম্প্রতিক
অনলাইন সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন গুরুত্বপূর্ণ, বললেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ★ জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, বিএনপি নেতার পোস্টে আলোচনা ★ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর ★ সিলেট তামাবিল মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিন জনের প্রাণহানি আহত অন্তত দশ ★ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে ওঠার পূর্বাভাস আইএমএফের, কমছে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ★ আমিরাতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা, ট্যাক্সি ও ট্রাক চালক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা ★ টিকটকে সরাসরি কেনাকাটার নতুন সুবিধা, যুক্ত হচ্ছে এআই সহকারী ★ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতার পদ স্থগিত ★ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯ ★ পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি ★ ছাতকে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ির বাঁশঝাড় থেকে বিদেশি রিভলবার উদ্ধার ★ ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত ★ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু সোমবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার নির্দেশ ★ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, প্রতিবাদ জানাল ঢাকা ★ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে অগ্রগতি, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা ★ শপথের পর সরকারি অর্থে দুর্নীতি করেননি, দাবি সংসদ সদস্য আমির হামজার ★ রাংপানি নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান জৈন্তাপুরে ১৫টি বারকি নৌকা জব্দ করে বিনষ্ট ★ ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধির ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগ সিলেটের জৈন্তাপুরে ★ গোয়াইনঘাটে দায়িত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল ★ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় কেএম লিমন'কে গোয়াইনঘাট অনলাইন প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা ★ নিজপাট ইউপি’র ঘটনা নিয়ে ইন্তিয়াজ আলী চেয়ারম্যানের বক্তব্য-প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান ★ জৈন্তাপুরে মহাসড়কের পাশে ৬০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ★ জৈন্তাপুরে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধারাবাহিক সাফল্য ★ জৈন্তাপুরে মাদক-চোরাচালানে কঠোর হওয়ার নির্দেশ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ★ জৈন্তাপুরে গভীর রাতে সারী-২ নদীতে অভিযান, বালু উত্তোলনের বোমা মেশিন জব্দ ★
হোম › কৃষি ও খাদ্য › জগন্নাথপুরে পানির সংকটে বোরো জমি চৌচির বৃষ্টির জন্য হাহাকার

জগন্নাথপুরে পানির সংকটে বোরো জমি চৌচির বৃষ্টির জন্য হাহাকার

আইকন
ন্যাশনাল বার্তা
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
জগন্নাথপুরে পানির সংকটে বোরো জমি চৌচির বৃষ্টির জন্য হাহাকার

প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার। বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েক মাস ধরে বৃষ্টির দেখা না মেলায় ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। চারা রোপণের সময় সেচ দিয়ে কোনোমতে আবাদ শুরু করলেও বর্তমানে পানির তীব্র সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। মাঘ পেরিয়ে ফাল্গুনের তপ্ত রোদে মাঠের ফসল যখন শুকিয়ে যাচ্ছে, তখন আকাশের পানে তাকিয়ে বৃষ্টির জন্য প্রহর গুনছেন হাওরপারের মানুষ।

বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের এই দুপুরে নলুয়ার হাওর ও নারিকেলতলা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জন্য এক করুণ আর্তনাদ লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকদের লোকগাঁথায় প্রচলিত ‘মাঘে মেঘে দেখা হবে’ সেই প্রাচীন বিশ্বাস এবার বাস্তবে রূপ নেয়নি। মাঘ মাস পেরিয়ে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় চললেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির কোনো দেখা নেই। হাওরের বিল, ডোবা আর খাল নদীগুলো মাছ ধরার জন্য আগেই শুকিয়ে দেওয়ায় এখন একমাত্র প্রাকৃতিক বৃষ্টি ছাড়া সেচ দেওয়ার আর কোনো বিকল্প উৎস অবশিষ্ট নেই।

নলুয়ার হাওরের কৃষক এনামুল হক ও আনোয়ার হোসেনের মতো অনেকেই আক্ষেপ করে জানান, পানির অভাবে জমির মাটি আলগা হয়ে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং বৃষ্টির অভাবে ধানের চারা লালচে বর্ণ ধারণ করছে। কৃষকদের মতে, এই মুহূর্তে আকাশ থেকে ঝরা দু ফোঁটা পানি কেবল জমির তৃষ্ণা মেটাবে না, বরং তা ধানকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করে সোনালী ফলনের নিশ্চয়তা দেবে। জমির মালিকরা জানান, নদী নালা শুকিয়ে ফেলায় তারা এখন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার ছোট বড় ১২টি হাওর ও নন হাওর মিলিয়ে এবার ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। যেখান থেকে সরকারিভাবে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী গত সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত বৃষ্টি হলে ফসলের এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং ফলন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্জিত হবে।

মাটির বুক চিরে যখন ফসল জাগে, তখন কৃষকের মনে রঙিন স্বপ্নের জন্ম হয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন পানির অভাবে মাঠেই পুড়ে যায়, তখন তা গোটা জনপদের জন্য এক বিষাদময় অধ্যায়ের সৃষ্টি করে। প্রকৃতির এই আচরণ কাটিয়ে আবারও হাওরের বুক স্নিগ্ধ বৃষ্টির পরশে ভরে উঠুক এবং কৃষকের কঠোর পরিশ্রমের ফসল গোলায় উঠুক সুনামগঞ্জের আকাশজুড়ে এখন কেবল এই একটি প্রার্থনাই ধ্বনিত হচ্ছে।