জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, বিএনপি নেতার পোস্টে আলোচনা
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ফয়সাল আলিম অভিযোগ করেন, বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ল্যাপটপগুলো সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে আত্মীয়স্বজনের নামে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শাশুড়ি ও শ্যালকের নাম উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।
পোস্টের শেষাংশে জয়পুরহাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ফয়সাল আলিম। তাঁর বক্তব্য প্রকাশের পর পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মন্তব্যকারীদের একাংশ ফয়সাল আলিমের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। তবে অন্যদিকে বেলাল হোসেন ও জিল্লুর রহমান নামের কয়েকজন মন্তব্যকারী তাঁর সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের পোস্ট দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়াতে পারে এবং জামায়াতকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম বলেন, তিনি দলের বিরোধিতা করার জন্য নয়, বরং দলের স্বার্থেই এসব কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতি ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন না। কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করেছেন এবং কারা সার ডিলারশিপ পেয়েছেন, তা জয়পুরহাটের মানুষ জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ফয়সাল আলিমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন। পোস্টটির সমালোচনা করে তিনি জানান, লেখাটি পড়া তাঁর কাছে রুচিকর মনে হয়নি।
ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে ফয়সাল আলিমের তোলা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।