মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ; ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার চরম সংকটের মুখে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয় যে এবারের পরিকল্পনাটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও বিধ্বংসী হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেন তবে মার্কিন বাহিনী কেবল ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো নয় বরং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানার নীল নকশা তৈরি করেছে।
এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যেই তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে পর্দার অন্তরালে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার খবর পাওয়া গেলেও সমান্তরালে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক কড়া হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ ব্যর্থ হলে এর বিকল্প হবে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পেন্টাগন ইতিমধ্যে আরবসাগরে থাকা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে যোগ দিতে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে এমন দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং তাদের বিশেষায়িত রেভল্যুশনারি গার্ডস ইতিমধ্যে হুমকি দিয়েছে যে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে হামলা শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের একটি চক্র তৈরি হতে পারে যা পুরো অঞ্চলে একটি বিস্তৃত যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল তবে এবারের সম্ভাব্য অভিযানটি হতে পারে অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী।
বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা বাড়ছে যে কূটনীতি যদি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী হতে পারে।
যুদ্ধের বিভীষিকা আর ধ্বংসের বিপরীতে আমরা সবসময়ই আলোচনার টেবিলে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজি কারণ সংঘাত কখনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বয়ে আনতে পারে না। বৈশ্বিক এই ক্রান্তিলগ্নে শুভবুদ্ধির উদয় হোক এবং অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করুক প্রতিটি প্রান্তে এটাই প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের প্রার্থনা।