লালাখালে পর্যটকদের পকেট কাটা বন্ধে কঠোর প্রশাসন: অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জরিমানা ও সতর্কবার্তা
প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল পর্যটন এলাকায় আসা পর্যটকদের হয়রানি ও আর্থিক শোষণ বন্ধে এবার আপসহীন অবস্থানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া আদায়ের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে লালাখাল নৌঘাটে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বিকেল ৪টার দিকে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় পরিচালিত এই তল্লাশিতে দেখা যায় যে, কিছু অসাধু নৌযান মালিক ও চালক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ পর্যটকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন। অপরাধের প্রমাণ মেলায় সংশ্লিষ্টদের ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও নির্দেশ অমান্য করায় এবার সরাসরি জরিমানার মুখে পড়তে হলো অভিযুক্তদের। একই সাথে, সকল নৌযান চালক ও ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা (রেট চার্ট) প্রদর্শনের জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। উপজেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। যদি ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে কেবল জরিমানাই নয় বরং লাইসেন্স বাতিলসহ আরও কঠোর দণ্ড প্রদান করা হবে যা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রশাসনের এই তৎপরতাকে স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ নীল জলরাশির এই জনপদে যখন অতি মুনাফার লোভে আতিথেয়তার অমর্যাদা হয়, তখন তা কেবল পর্যটকদের নয় বরং পুরো অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। পর্যটন কেন্দ্রের স্বচ্ছতা আর ব্যবসায়ীদের সততা যখন একবিন্দুতে মেলে তখন সেখানে প্রতিটি দর্শনার্থী তার হৃত প্রশান্তি খুঁজে পায়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি পর্যটক হবে সমাদৃত এবং প্রতিটি ভ্রমণ হবে হয়রানিমুক্ত ও আনন্দময়। অন্ধকারের সকল চাতুর্য আর পকেট কাটার সংস্কৃতি মুছে গিয়ে সততার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার অর্জিত অধিকার ও নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে এই বিশৃঙ্খলা দূর করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক পর্যটনবান্ধব আধুনিক বাংলাদেশ।