নকলমুক্ত ও আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিতে অনড় শিক্ষামন্ত্রী: শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক আমলের মতো অনিয়ম বা নকলের কোনো সুযোগ বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থায় থাকবে না। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সম্মেলন কক্ষে বোর্ড কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়কালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অতীতে একশ্রেণির অসাধু উপায়ে পরীক্ষা পরিচালনার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল তা দেশের মেধা বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন থেকে সেই ধারা সম্পূর্ণ বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষকদের জাতির কারিগর হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে একজন পুলিশ সদস্য কিংবা জেলা প্রশাসক নির্দিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও আগামীর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্বটি ন্যস্ত থাকে শিক্ষকদের কাঁধে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থার কথা স্মরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের জন্য একটি 'এবাদতখানা' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা প্রতিটি ছাত্রকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজটিকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন। তার মতে একজন শিক্ষক যদি একজন শিক্ষার্থীকে সুপথে পরিচালিত করতে পারেন তবে তা পরকালীন কল্যাণের এক মহৎ উৎস বা 'সদকায়ে জারিয়া' হিসেবে গণ্য হবে। তিনি শিক্ষকদের হাতে থাকা কলমকে কেবল নম্বর দেওয়ার যন্ত্র নয় বরং আদর্শ মানুষ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কেবল পরীক্ষার সময়টুকুই নয় বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বদা নজরদারি বজায় রাখতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের ভূমিকাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী জানান যে কোনো প্রকার অনৈতিক সহায়তা বা শৈথিল্য প্রদর্শন সহ্য করা হবে না। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আদর্শ পরীক্ষা হল উপহার দেওয়াই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য যা দেশের শিক্ষা খাতের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
শিক্ষার আলো যখন কোনো অন্ধকার ও অন্যায়ের সাথে আপস করে না তখন একটি জাতির মেরুদণ্ড সত্যিকার অর্থেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরীক্ষার খাতায় কলমের কালি যখন কেবল মেধার স্বাক্ষর বহন করে তখন সেখানে কোনো কারচুপির ঠাঁই থাকে না বরং ফুটে ওঠে এক উজ্জ্বল আগামীর প্রতিচ্ছবি। আমরা এমন এক সময়ের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার আপন যোগ্যতায় জ্বলে উঠবে এবং প্রতিটি শিক্ষক হবেন নীতি ও আদর্শের অতন্দ্র প্রহরী। অন্ধকারের সকল অনিয়ম আর নকলের বিষবাষ্প মুছে গিয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ এবং প্রতিটি ছাত্র ফিরে পাক তার শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও আত্মমর্যাদা। সাহসের সাথে এই শিক্ষা বিপ্লবে অংশ নিয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক মেধাবী ও উন্নত বাংলাদেশ।