তারেক রহমানের মানবিক রাজনীতি ও জীবনবোধ বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক দৃষ্টান্ত: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক গুণাবলি ও সাদামাটা জীবনযাপনকে বিশ্ব রাজনীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তিনি উল্লেখ করেন যে আর্তপীড়িত ও অসহায় মানুষের সেবা করাই সরকারপ্রধানের রাজনীতির মূল ব্রত এবং এই আদর্শকে সমুন্নত রেখেই তিনি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আজ সফল হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে 'আমরা বিএনপি পরিবার' সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জামালের কন্যা তানিয়া আক্তার রুমির বিয়ের খরচ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া জপেল চাকমার পড়াশোনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক শুভেচ্ছা উপহার প্রদানের উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মীর হেলাল তার বক্তব্যে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানের চলন-বলন ও জীবনযাত্রা অত্যন্ত বিনয়ী ও সাধারণ। তার এই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং অকৃত্রিম মানবিকতা কেবল এই উপমহাদেশে নয় বরং বিশ্ব দরবারেও বিরল যা বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য এক বিশেষ শিক্ষা। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে প্রধানমন্ত্রী কথায় নয় বরং কাজে বিশ্বাসী এবং জনকল্যাণের প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। এমনকি সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রশাসনকে নিরলসভাবে কাজ করিয়ে নেন যা তার দায়িত্বশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। মানুষের প্রতি মমত্ববোধের পাশাপাশি পশুপাখির প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসার বিষয়টিও প্রতিমন্ত্রী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন এবং মেধাবী ছাত্র জপেল চাকমার জন্য নিয়মিত মাসিক শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেন। একই সাথে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্জিয়া আক্তার মাইশাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর উপদেষ্টা মো. আবুল কাশেম এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি যেখানে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে সামাজিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন।
একজন প্রকৃত নেতার সার্থকতা কেবল ক্ষমতার সিংহাসনে নয় বরং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে। নেতৃত্বের এই মানবিক স্পর্শ যখন কোনো অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটায় তখন তা কেবল একটি অনুদান থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ ও সহমর্মী আগামীর জীবন্ত প্রতিশ্রুতি। আমরা এমন এক সময়ের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রনায়ক হবেন আর্তমানবতার আশ্রয়স্থল এবং আভিজাত্যের দেয়াল ভেঙে প্রতিটি পদক্ষেপ হবে কেবল দেশ ও দশের কল্যাণে নিবেদিত। অন্ধকারের সকল নিষ্ঠুরতা ও অহমিকা মুছে গিয়ে সহমর্মিতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি ঘর এবং প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাক তার কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা। সাহসের সাথে এই উদার ও মানবিক রাজনীতির পথে হেঁটেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক আধুনিক ও বৈষম্যহীন স্বপ্নের বাংলাদেশ।