হেলিকপ্টার নেই, তোরণ নেই: দিনাজপুরে নজিরবিহীন 'সাদামাটা' সফরে প্রধানমন্ত্রী
কোনো প্রকার আড়ম্বর, তোরণ কিংবা ফেস্টুন ছাড়াই এক ব্যতিক্রমী ও সাদামাটা সফরে দিনাজপুর ঘুরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ১৬ মার্চ দেশব্যাপী ৫৪টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি কাহারোল উপজেলায় এই সফর করেন। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে কাহারোল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৬০ কিলোমিটার যাত্রাপথে ছিল না কোনো বিশেষ সাজসজ্জা বা নেতাকর্মীদের স্বাগত ব্যানার। এমনকি নিরাপত্তার অতিরিক্ত কড়াকড়ি কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য এই সফরটি উন্মুক্ত রাখা হয়।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহপাড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এর ফলে বছরে অতিরিক্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জীবনমান বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী মঞ্চে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মূল সড়ক থেকে পায়ে হেঁটে স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ ও সাধারণ উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার ছাড়া সড়কপথে এসেছেন এবং বড় বড় নেতার আগমনে যে বিশাল ব্যানার-পোস্টারের খরচ দেখা যেত, এবার তার কিছুই ছিল না। সাধারণ মানুষের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি যাওয়াও ছিল অনেক সহজ। সাধারণ চাকরিজীবী থেকে শুরু করে কৃষক—সবাই প্রধানমন্ত্রীর এই জনমুখী ও সাধারণ জীবনধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
নেতৃত্ব যখন আভিজাত্যের দেয়াল ভেঙে সাধারণ মানুষের কাতারে এসে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল একটি সফর থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে আস্থার এক অনন্য সেতুবন্ধন। হেলিকপ্টারের গর্জন আর তোরণের জৌলুস কমিয়ে যখন উন্নয়নের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখনই সূচিত হয় প্রকৃত পরিবর্তনের ধারা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হবে সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং প্রতিটি নেতা হবেন মাটির মানুষের কাছের স্বজন। অন্ধকারের সকল অপব্যয় ও লৌকিকতা মুছে গিয়ে স্বচ্ছতা আর সরলতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ। সাহসের সাথে এই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার পথে।