হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা: চীন ও জাপানসহ ৫ দেশের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন ট্রাম্প
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বৈশ্বিক জোট গঠনের ডাক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো দেশগুলো যারা এই পথ দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেল ব্যবহার করে, এই জলপথ রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব তাদেরই হওয়া উচিত। রোববার ১৫ মার্চ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি নিরাপদ রাখার একক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া উচিত নয়। তার মতে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি থেকে তেলের সুবিধা ভোগ করে, সেই দেশগুলোরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা যৌক্তিক। ট্রাম্পের এই অবস্থান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত বৈশ্বিক নিরাপত্তা নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে সামরিক ও আর্থিক দায়ভার ভাগ করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ইরান এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এটি ট্রাম্পের একটি কৌশলগত চাল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে এই অঞ্চলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই বিপুল সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে এবং অতিরিক্ত মেরিন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এককভাবে এই বিশাল জলপথের সুরক্ষা বজায় রাখা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন ও জাপানের মতো জ্বালানি নির্ভর দেশগুলো ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।
বারুদের ধোঁয়া আর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে যখন বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পথগুলো অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তখন তার প্রভাব পড়ে প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। হরমুজ প্রণালির এই সংকট কেবল সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির টিকে থাকার লড়াই। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির আস্ফালন নয় বরং সকল রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমুদ্রপথগুলো থাকবে নিরাপদ ও উন্মুক্ত। অন্ধকারের এই অনিশ্চয়তা মুছে গিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ফিরে আসুক বিশ্বশান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। সাহসের সাথে এই কঠিন বাস্তবতাকে জয় করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পৃথিবী।