জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার ১৪ মার্চ ইউসিজে নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন যে যদি ইরানের জ্বালানি তেলের কোনো অবকাঠামো বা স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান। এই বিবৃতির ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সময় ইরানি বাহিনী এমনভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করবে যেন কোনো জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা বেসামরিক মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয়। মূলত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকেই তাদের পাল্টা হামলার মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরাগচির এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ইরান তার জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান যে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইরান কোনোভাবেই শত্রু বা এমনকি মিত্র দেশগুলোর তেল ট্যাংকার এবং পণ্যবাহী জাহাজকে অবাধে অতিক্রম করতে দেবে না। কৌশলগত এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বারুদের ধোঁয়া আর পাল্টাপাল্টি হুমকির মাঝে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে যায়, তখন তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে প্রতিটি ঘরে। জ্বালানি রাজনীতির এই লড়াই কেবল ভূ-খণ্ডের নয় বরং এটি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের স্বস্তির ওপর আঘাত হানে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে আস্ফালন নয় বরং আলোচনার টেবিলে প্রতিটি সংকটের সমাধান হবে। অন্ধকারের এই বৈরিতার প্রাচীর ভেঙে একদিন শান্তির সূর্য উদিত হবে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা। সাহসের সাথে এই কঠিন বাস্তবতাকে জয় করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শান্তিময় ও সংঘাতমুক্ত পৃথিবী।