মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের নজিরবিহীন হামলা: ২৬ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদির
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে শনিবার রাতভর উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ডে ধেয়ে আসা ২৬টি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এসব ড্রোনের বেশিরভাগই রাজধানী রিয়াদ এবং তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চল এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) ইরান থেকে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। তবে শনিবারের এই ড্রোন হামলায় দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা বন্দরে ভয়াবহ আগুন লেগে যায় যা নেভাতে দমকল কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে বাহরাইন জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটতম আশ্রয়স্থলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির কারণে ওমানে অবস্থানরত জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাতের আঁচ লেগেছে কুয়েত ও কাতার সীমান্তেও। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের ন্যাশনাল গার্ড পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ শনিবার সারাদিন ধরে চালানো বিভিন্ন হামলা প্রতিহত করার বিবরণ দিলেও রাতভর হওয়া আক্রমণগুলোর বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই আকস্মিক ও বহুমুখী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বারুদের ধোঁয়া আর যুদ্ধের দামামায় যখন আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়, তখন সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয় সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বপ্ন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল কয়েকটি দেশের সীমান্ত বিরোধ নয় বরং এটি বিশ্ব শান্তির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির আস্ফালন নয় বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি সংকটের সমাধান হবে এবং কোনো নিষ্পাপ প্রাণকে অকালে ঝরে যেতে হবে না। অন্ধকারের এই অশুভ ছায়া মুছে গিয়ে শান্তির আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে জয় করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শান্তিময় ও নিরাপদ পৃথিবী।