ইরান যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা নিজের অনুভবের ওপর ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং উত্তেজনার সমাপ্তি নিয়ে এক রহস্যময় মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ১৫ মার্চ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান যে ইরান যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন তিনি নিজের ভেতর থেকে এটি অনুভব করবেন। যুদ্ধের শেষ সময় নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা না দিয়ে তার এই ব্যক্তিগত 'অনুভবের' ওপর গুরুত্বারোপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছিল যে এই সংঘাতের শেষ কোথায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন যখন আমি আমার ভেতর থেকে এটি টের পাবো তখনই এর সমাপ্তি ঘটবে। একই দিনে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বড় ধরনের দাবি করে বলেন যে ইরান বর্তমানে সামরিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরান এখন একটি সমঝোতা বা চুক্তি করতে চাইছে কিন্তু তারা যে ধরনের শর্ত দিচ্ছে তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য এখনো তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। ইরানকে পরাজিত হিসেবে ঘোষণা করে এবং নিজের মর্জির ওপর যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ভর করছে এমন বার্তা দিয়ে তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নিজের শর্তে আনতে চাইছেন। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা প্রতিরোধের কথা বলায় সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান এবং ইসরায়েলের সাথে সম্মিলিত সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভঙ্গি বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
বারুদের ধোঁয়া আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যখন বিশ্ব রাজনীতি আবর্তিত হয় তখন সাধারণ মানুষের ভাগ্য ঝুলে থাকে গুটি কয়েক মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর। এক পক্ষ যখন বিজয় দাবি করে আর অন্য পক্ষ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে তখন মাঝপথে পিষ্ট হয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির আস্ফালন নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি সংঘাতের ন্যায়সঙ্গত সমাধান হবে। অন্ধকারের এই অনিশ্চয়তা মুছে গিয়ে একদিন সত্যের আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক শান্তিময় ও বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে।