ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্যবৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ১০ মার্চ ২০২৬ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের সঙ্গে এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এর দাম একফোঁটাও বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ বা সম্ভাবনা নেই। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তেলের সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির যে খবর প্রচারিত হয়েছে সেটিকে সাময়িক অস্থিরতা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বাজার তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান যে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট নেই বরং কিছু অসাধু মহলের ছড়ানো গুজবে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ ভোক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনায় সরবরাহের ওপর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি আমদানিকারকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করেন যে মজুত পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। মন্ত্রীর মতে আতঙ্কিত হয়ে বাজারে তেলের জন্য হুড়োহুড়ি করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুনাফা লোটার চেষ্টা করতে পারে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে জ্বালানি তেল বা গ্যাসের মতো ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও কোনো ঘাটতি নেই এবং এসব অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের নামের সাথে সংকট শব্দটি যুক্ত করে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়াতে তিনি সকলের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তদারকি চালানো হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে কোনো বিক্রেতা বা মজুতদার যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রুখতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রিফাইনারিগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে যা আগামী কয়েক মাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
একটি স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা নাগরিক জীবনের স্বস্তির মূল ভিত্তি এবং গুজব মুক্ত পরিবেশই পারে সেই স্বস্তি বজায় রাখতে। যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের হিড়িক পড়ে তখন প্রকৃত অভাবী মানুষরা বঞ্চনার শিকার হয় যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে সততা আর নৈতিকতার সাথে ব্যবসা পরিচালিত হবে এবং প্রতিটি ভোক্তা তার ন্যায্য মূল্যে পণ্য সংগ্রহের অধিকার ফিরে পাবে। ত্যাগের এই মাসে পারস্পরিক সহযোগিতা আর ধৈর্যই হতে পারে আমাদের শ্রেষ্ঠ শক্তি যা সমাজের প্রতিটি স্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। অন্ধকার আর বিভ্রান্তি কাটিয়ে স্বচ্ছতার এই পথ ধরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এগিয়ে যাবে এক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ আগামীর দিকে। এভাবেই সাহসের সাথে আমরা জয় করব সকল কৃত্রিম সংকট আর প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে ন্যায়ের সুবাতাস।