দুর্যোগ মোকাবিলায় গতিশীলতা আনবে সমন্বিত কর্তৃপক্ষ: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের অপেক্ষা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের সমন্বয় নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ও সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে দুর্যোগকালীন উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে আরও সুসংহিত করতে বর্তমানে পৃথক কাঠামোর অধীনে থাকা সংস্থাগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বা ‘এক ছাতার নিচে’ নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত মাঠপর্যায়ে কাজের দ্বৈততা পরিহার, সময়ক্ষেপণ রোধ এবং প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) এবং রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের সাংগঠনিক কাঠামো আলাদা হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এই জটিলতা নিরসনে প্রস্তাবিত সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদান থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা পর্যন্ত সবকিছু একটি একক কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হবে। এই প্রস্তাবনার বিষয়ে আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং এই সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আসন্ন বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসের কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এখনই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞগণও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে পৃথিবীর অনেক দুর্যোগপ্রবণ দেশে এ ধরনের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সফলভাবে কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশেও এমন একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে তথ্য আদান-প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে যা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরাসরি সহায়ক হবে।
প্রকৃতির রুদ্ররোষ যখন আমাদের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায় তখন ঐক্যবদ্ধ শক্তি আর সঠিক পরিকল্পনাই হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা। দুর্যোগের ঘনঘটা চিরে যখন একদল সেচ্ছাসেবী সেবার হাত বাড়িয়ে দেয় তখন সেই সংহতির মূল্য অপরিসীম। সমন্বিত এই নতুন উদ্যোগটি কেবল একটি দাপ্তরিক পরিবর্তন নয় বরং এটি অসহায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। আমরা প্রত্যাশা করি সাহসের সাথে গৃহিত এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তটি আমাদের প্রিয় স্বদেশকে দুর্যোগের বিপরীতে আরও সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল করে তুলবে। এভাবেই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি ঝড়-ঝঞ্ঝা অতিক্রম করে এক নিরাপদ ও শান্তিময় আগামীর পথে বাংলাদেশের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখব।