ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: উত্তরের বাতাস জামায়াতে ও দক্ষিণের হাওয়া এনসিপিতে
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সারা দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ঢাকার এই গুরুত্বপূর্ণ দুই নগরপিতা নির্বাচনে কোন দল কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো ঘোষিত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই নিজ নিজ দলের নীতিনির্ধারকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে ছয়টি আসনে জয়ী হয়ে আলোচনায় আসে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে ঢাকার দুটি সিটিতে শক্তিশালী অবস্থান জানান দিতে চায় তারা। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হলে অন্তত একটি সিটিতে নিজেদের প্রার্থী নিশ্চিত করতে চায় দলটি। এই লক্ষ্য নিয়ে জোটের অন্দরে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
দলীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলটির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। এই সেক্টরে পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে তাকেই যোগ্য মনে করছে দলের একটি বড় অংশ। পাশাপাশি ঢাকা আট আসনের সাবেক প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীও দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। তারাবির নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম। জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি নিয়মিত জনশুমারি ও দোয়া কামনার মাধ্যমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রধান শক্তি জামায়াতে ইসলামীও বসে নেই। ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। দক্ষিণে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নানের নাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জোট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে দুই সিটি নির্বাচনে সমঝোতা হলে জামায়াত একটি আসন তাদের অন্যতম শরিক এনসিপিকে ছেড়ে দিতে পারে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এনসিপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইফতার মাহফিল ও ব্যক্তিগত প্রচারণার মাধ্যমে তাদের প্রার্থীরা সক্রিয় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে জোটের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর। তফসিল ঘোষণার পরই মূলত স্পষ্ট হবে তারা এককভাবে লড়বেন নাকি জোটগতভাবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা যেন এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব উঠে আসে যারা কেবল ক্ষমতার মোহ নয় বরং জনগণের যাপিত জীবনের কষ্ট ও নাগরিক সংকটে সবসময় ছায়ার মতো পাশে থাকবে। শেষ পর্যন্ত রাজনীতির এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার জন্য এখন অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তিলোত্তমা ঢাকার সাধারণ মানুষ।