ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের পর্ষদ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার ভার গ্রহণ করেছে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ। পহেলা মার্চ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অস্থায়ীভাবে দেশের সার্বিক শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে এই উচ্চপর্যায়ের পর্ষদ।
সংবিধান অনুযায়ী গঠিত এই বিশেষ পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। এই তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ ও তদারকি করবেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোতে সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতাই ছিলেন সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু যার অধীনে সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগ পরিচালিত হয়।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ইতোমধ্যে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি এ পর্যন্ত দুইজন সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। শিয়া ধর্মতত্ত্বে আয়াতুল্লাহ উপাধিটি একজন জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে নির্দেশ করে। খামেনি কেবল ধর্মীয় প্রধানই ছিলেন না বরং তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন এই পর্ষদকে অত্যন্ত জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে।
একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি আর নতুন নেতৃত্বের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ ইরান এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের মুখোমুখি। জাতীয় এই শোকের সময়ে তিন সদস্যের এই পর্ষদ যেন ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে এটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতার পালাবদল যখন নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি পথে পরিচালিত হয় তখন তা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সঞ্চার করে। কামানের গর্জন আর বাইরের অস্থিরতা ছাপিয়ে ইরানি জনগণ যেন তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে শান্তিপূর্ণ পথে এগিয়ে যেতে পারে এটিই বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা। শোকের এই ছায়া কাটিয়ে উঠে আগামীর সূর্য যেন শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে উদিত হয় এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।