ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অভিযানের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। পহেলা মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে সবচাইতে বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে।
বিবৃতিতে অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও সম্ভাব্য এই হামলার সুনির্দিষ্ট সময় স্থান বা কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করার পরপরই এই কঠোর হুঁশিয়ারি এল। বর্তমানে ইরানে এই শোকাবহ ঘটনায় চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এই সংকটময় মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এক বিশেষ অভিযানের ফলে খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বিবৃতি পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।
শক্তির দাপট আর যুদ্ধের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে তখন সাধারণ মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। কামানের গর্জন আর ধ্বংসলীলা কোনো জাতির জন্যই সমৃদ্ধি বয়ে আনে না বরং তা কেবল দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার উপহার দেয়। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যেন এই অস্থিরতা প্রশমিত হয় এবং প্রতিটি জনপদ রক্তপাত থেকে রক্ষা পায় এটিই আজ বিশ্ববাসীর প্রার্থনা। অস্ত্রের হুঙ্কার ছাপিয়ে যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয় এবং মানবতার জয়গান গেয়ে পৃথিবী আবারও শান্তিময় হয়ে ওঠে। আগামী দিনের সূর্য যেন কোনো ধ্বংসের বারতা নিয়ে নয় বরং সম্প্রীতি আর নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে উদিত হয় এই প্রত্যাশায় আজ উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছে শান্তিকামী মানুষ। প্রতিটি জীবনের মূল্য যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে।