কারাবন্দি ইমরান খানের চোখের উন্নত চিকিৎসার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিআই
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক ই ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশটির সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে তাঁর দল পিটিআই। পঁচিশ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এক পিটিশনে তিয়াত্তর বছর বয়সী এই নেতার দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার লক্ষে তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানানো হয়েছে। পিটিআইর আইনজীবী লতিফ খোসা তোশাখানা ফৌজদারি মামলার প্রেক্ষিতে এই জরুরি আবেদনটি দাখিল করেন।
আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড এবং ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের তৈরি করা স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিটিশনে অনুরোধ করা হয়েছে যেন একজন অভিজ্ঞ রেটিনা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ইমরান খানের চোখের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। একই সাথে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড ড ফয়সাল সুলতান ও ড অসীম ইউসুফ এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন এবং এর আগে একাধিকবার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল রিপোর্টের সত্যায়িত কপি যেন তাঁর আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তোশাখানা মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
দুই হাজার তেইশ সালের আগস্ট মাস থেকে ইমরান খান আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলাসহ ৯ মে এর বিক্ষোভ সংক্রান্ত একাধিক মামলায় তিনি বর্তমানে বিচারাধীন। আদিয়ালা জেলের চিকিৎসা বোর্ডের সাম্প্রতিক পরীক্ষা অনুযায়ী তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির কিছুটা উন্নতি হলেও বাম চোখের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাজনীতির মঞ্চে একসময়ের প্রবল পরাক্রমশালী একজন নেতার কারান্তরালে অসুস্থতার খবর দেশ বিদেশের মানুষের মনে এক বিষণ্ণ আবেগের সৃষ্টি করে। ক্ষমতার উত্থান পতনের এই দীর্ঘ যাত্রায় দিনশেষে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অনস্বীকার্য। জেলের নির্জন প্রকোষ্ঠে বন্দি জীবনের এই কঠিন সময়ে মানবিক মূল্যবোধ আর ন্যায়বিচার যেন সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকে এটিই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। প্রতিটি জীবনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং অসুস্থতার সময়ে সহমর্মিতা প্রদর্শনই একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।