সামরিক সমাধানে বিপর্যয় আসবে’; ট্রাম্পের হুমকির মুখে কূটনীতির আহ্বান
ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো সম্ভব।
আরাগচির বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ: * বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি: আরাগচি বলেন, “সামরিক বিকল্প পরিস্থিতিকে কেবল জটিল করে তুলবে। এর ফলে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে, তার প্রভাব শুধু আমাদের ওপর নয়, বরং পুরো অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর পড়বে।”
* কূটনীতিতে গুরুত্ব: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, একটি কূটনৈতিক সমাধান এখনো নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে সেই চুক্তিকে অবশ্যই ‘ন্যায্য’ এবং ‘উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক’ হতে হবে।
* মার্কিন রণতরী মোতায়েন: পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি মনে করেন, এটি আলোচনার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
* শান্তির প্রস্তাব: আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান শান্তি স্থাপন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত, যদি ওয়াশিংটন সঠিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করে।
প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের অবস্থান: আব্বাস আরাগচির এই সাক্ষাৎকারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু সোজাসাপ্টা উত্তর দেন— “আমি এটি বিবেচনা করছি (I am considering it)।” উল্লেখ্য, ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় গত বছরের জুনের মতো আবারও বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে ইরানের আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও সোনার দামে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।