রমজানের প্রথম রজনী: আসমানি সেই ঘোষণা ও মুমিনদের জন্য মহান আল্লাহর ৪ উপহার
পবিত্র মাহে রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর অশেষ রহমত কামনার এক বিশেষ সুযোগ। গতকাল রমজানের প্রথম রজনীতে বিশ্বজুড়ে মুমিন মুসলমানরা যখন তারাবির নামাজ ও সিয়ামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন আসমানি ফয়সালায় ঘোষিত হয়েছে বান্দার জন্য বিশেষ কিছু নেয়ামত। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানের চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আধ্যাত্মিক জগতে এক বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২), রমজানের প্রথম রাতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে চারটি বিশেষ ঘোষণা ও উপহার কার্যকর করা হয়:
১. শয়তান ও দুষ্ট জিনদের বন্দিত্ব
রমজানের শুরুতেই অবাধ্য শয়তান ও দুষ্ট জিনদের শিকলবদ্ধ করা হয়। এর ফলে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা বা ‘ওয়াসওয়াসা’ দেওয়ার সুযোগ কমে যায়। এটি মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহপ্রদত্ত এক বিশেষ সুরক্ষা, যাতে তারা একাগ্রচিত্তে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে।
২. জান্নাতের দুয়ার উন্মুক্ত ও জাহান্নাম রুদ্ধ করা
প্রথম রাতে জান্নাতের সব কটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সব কটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আধ্যাত্মিক অর্থে এর অর্থ হলো—কল্যাণ ও নেক আমলের পথ সুগম করে দেওয়া এবং অকল্যাণ ও পাপাচারের পথকে সংকুচিত করা। পুরো মাসে জাহান্নামের একটি দরজাও খোলা হয় না।
৩. অদৃশ্য ঘোষকের আহ্বান
আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন স্বর্গীয় ঘোষক উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করতে থাকেন—
> "হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও।" অর্থাৎ যারা পুণ্য অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য এটি উদ্যমী হওয়ার সময়। আর যারা পাপে লিপ্ত, তাদের জন্য এটিই নিজেকে শুধরে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ।
>
৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি
সবচেয়ে বড় উপহার হলো—রমজানের প্রতিটি রাতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। এটি কেবল শেষ দশকের জন্য নির্ধারিত নয়, বরং প্রথম রাত থেকেই রহমতের এই ধারা শুরু হয়।
উল্লেখ্য যে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের মুসলমানরা প্রথম রোজা পালন করছেন। নতুন সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার এবং এই আধ্যাত্মিক ঘোষণাগুলোকে জীবনে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনের মাস হিসেবে রমজানে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে আমরা যেন আল্লাহর এই ঘোষণাগুলোর প্রকৃত হকদার হতে পারি—এটিই আজকের দিনের প্রত্যাশা।