গণতন্ত্রের নতুন পথচলা; নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণে বর্ণিল সাজে জাতীয় সংসদ ভবন
জনরায়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিদের বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত শেরেবাংলা নগরের দৃষ্টিনন্দন সংসদ ভবন। গত কয়েক বছরের অচলায়তন ভেঙে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্রটি আবারও ফিরে পাচ্ছে তার চিরচেনা প্রাণচঞ্চল রূপ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায় যেখানে সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরো ভবন এলাকায় চলছে ব্যাপক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ যা একটি নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয়ের বার্তা দিচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়ে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুরো এলাকাকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকেল ৪টায় একই স্থানে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথবাক্য পাঠ পরিচালনা করবেন। উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে সচিবালয় কোনো মন্তব্য না করলেও দৃশ্যত তা বরণের জন্য সাজানো হয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি একাই ২০৯টিতে জয়ী হয়েছে এবং তাদের শরিকদের মিলিয়ে এই সংখ্যা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন লাভ করে একটি শক্তিশালী বিরোধী ব্লক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটারের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে।
একটি অর্থবহ সংসদ কেবল আইন প্রণয়নের স্থান নয় বরং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর সর্বোচ্চ মঞ্চ। আমরা বিশ্বাস করি যুক্তি তর্কের লড়াই আর গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নতুন এই সংসদ হয়ে উঠবে জাতীয় অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। প্রতিটি জনপ্রতিনিধি তাঁর ওপর অর্পিত আমানতের মর্যাদা রক্ষা করে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেবেন এমনটিই এখন ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।