বিএনপির বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হওয়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের
জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তন ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন যে একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বার্থে তাঁর দল এই ফলাফলকে গ্রহণ করেছে এবং সংসদে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবে। জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তিনি আইনের শাসনের প্রতি তাঁর দলের অবিচল অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া দলের অগণিত স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন যে প্রতিকূল পরিস্থিতি ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁদের ভূমিকা গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করেছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি জানান যে প্রত্যাশিত জয় না এলেও ৭৭টি আসনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে সংসদে জামায়াতের শক্তি পূর্বের তুলনায় প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন ২০০৮ সালে বিএনপির আসন সংখ্যা অনেক কমে গেলেও ধৈর্য ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে আজ ২০২৬ সালে তারা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তিনি দলীয় কর্মীদের হতাশ না হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুতির আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে নতুন সংসদে জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন যে তাঁদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ছিল না বরং তা ছিল একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম। ক্ষমতার বলয়কে জনস্বার্থে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং সরকারের প্রতিটি গঠনমূলক কাজে সহায়তার পাশাপাশি ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো দায়িত্বশীলতার সাথে তুলে ধরতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর যত বেশি বলিষ্ঠ ও নীতিভিত্তিক হবে জাতীয় অগ্রগতির পথ তত বেশি মসৃণ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
রাজনীতির এই নতুন মোড়ে জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়াই এখন সময়ের দাবি। আমরা প্রত্যাশা করি ক্ষমতার মোহ নয় বরং জনগণের সেবাই হবে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল আদর্শ যেখানে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ জনকল্যাণে নিবেদিত হবে এবং বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে করবে আরও মজবুত।