প্রখর রোদে তপ্ত হচ্ছে প্রকৃতি: টানা কয়েকদিন দেশজুড়ে বইতে পারে তাপপ্রবাহ
টানা কয়েকদিনের স্বস্তিদায়ক ঝড়-বৃষ্টির ইতি ঘটিয়ে সারা দেশে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে তীব্র গরমের দাপট। আকাশ থেকে মেঘ সরে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা যেখানে গত চব্বিশ ঘণ্টায় কেবল রাজধানী ঢাকাতেই পারদ চড়েছে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে নতুন করে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও পরিধি ক্রমান্বয়ে কমে আসায় আগামী অন্তত পাঁচ দিন দিনের ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে শুক্রবার সারা দেশে দিনের গড় তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে যা আগের দিন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ছিল ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতেও তাপমাত্রার বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে যেখানে বৃহস্পতিবারের ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিপরীতে গতকাল রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সংস্থাটির ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১৬টিতে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও রাজধানীর আকাশ ছিল সম্পূর্ণ শুষ্ক যা আসন্ন তপ্ত আবহাওয়ারই পূর্বাভাস দিচ্ছে। আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে বর্তমান বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গা ছাড়া সারা দেশের আকাশ প্রধানত মেঘমুক্ত থাকবে এবং তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে মৃদু তাপপ্রবাহের সৃষ্টি করতে পারে।
চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিল যে এ মাসে দেশে এক থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ইতিপূর্বে এপ্রিলের শুরুতে টানা কয়েক দিন চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের ২৭টি জেলায় তীব্র গরম অনুভূত হয়েছিল যেখানে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যদিও আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক অভয় দিয়ে জানিয়েছেন যে ২০২৪ সালের টানা ২৬ দিন কিংবা ২০২৩ সালের ২২ দিনের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবার হওয়ার সম্ভাবনা কম কারণ দাবদাহের মাঝে মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু এবং ৩৮ ডিগ্রির ওপরে গেলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে যা আগামী কয়েক দিনে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
প্রকৃতির মেজাজ যখন রুক্ষ হয় তখন সাধারণ মানুষের কর্মজীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনেরই এক নিদারুণ প্রতিফলন। কাঠফাটা রোদ আর গুমোট গরমে যখন প্রাণিকুল ও কৃষি বিপন্ন হয় তখন সেখানে ছায়া ও শীতল বৃষ্টির জন্য হাহাকার বাড়ে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে ঋতুচক্র তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি জীবজগত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। অন্ধকারের সকল তীব্র দাবদাহ আর অসহনীয় গরম মুছে গিয়ে প্রশান্তির বৃষ্টিতে সিক্ত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার কর্মচঞ্চল ও নিরাপদ যাপন। সাহসের সাথে এই প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ।