জৈন্তাপুরে বাসে তল্লাশি: ৩.৪ লাখ টাকার চোরাই পণ্যসহ আন্তঃজেলা চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে চোরাচালানবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্যসহ একটি সক্রিয় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর মডেল থানার সামনে নিয়মিত চেকপোস্ট ডিউটির সময় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৫০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে আনা এসব পণ্য যাত্রীবাহী বাসে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিদ্যুৎ পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকা মেট্রো ব-১১-৬৬০৩ নম্বরের ‘রাফী উত্তরা পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায়। এসময় বাসের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের চকলেট (কিটক্যাট, সাফারি, পার্ক, ডেইরি মিল্ক, ফাইভ স্টার, স্নিকার্স) এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খোলা জিরা জব্দ করা হয়। এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গাজীপুরের কাপাসিয়ার নাজমুল মিয়া ওরফে সানি (২৮), গাজীপুর সদরের মো. আব্দুল্লাহ (৩৪), টঙ্গীর মো. রনি (৪০) এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুরের হিমাংশু চন্দ্র বর্মনকে (৩৫) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা সংঘবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পথে এসব পণ্য সংগ্রহ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাকারবারিদের এই দৌরাত্ম্য রুখতে পুলিশের এমন তৎপরতা স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও বৈধ বাজারব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। অপরাধীরা যতই সুকৌশলী হোক না কেন, তাদের কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও জানান যে, এই চক্রের নেপথ্যে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সীমান্তের কাঁটাতার যখন অসাধু বাণিজ্যের সুড়ঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল রাজস্বই কেড়ে নেয় না বরং দেশীয় শিল্পের বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করে। শুল্ক ফাঁকির এই চোরাবালি থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এমন অতন্দ্র প্রহরাই এখন সময়ের দাবি। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি সীমান্ত হবে নিরাপদ এবং প্রতিটি পণ্য আসবে বৈধ পথে। অন্ধকারের সকল চোরাচালান আর অবৈধ সিন্ডিকেট মুছে গিয়ে স্বচ্ছতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি মহাসড়ক এবং প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাক তার ন্যায্য ও ভেজালমুক্ত বাজার। সাহসের সাথে এই অপরাধ চক্রের বিনাশ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।