বাংলাদেশ ফার্স্ট’: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরছে নতুন সরকার
দেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বাংলাদেশের আগামীর পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ স্পষ্ট করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল মন্ত্র হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাচ্ছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারে বারে বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের ফরেন পলিসির অভিমুখ হবে জাতীয় স্বার্থকে পই পই করে বুঝে নেওয়া। এটাই আমাদের রেড লাইন।” তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতির আমলের তিনটি সাহসী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন—জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ, সার্ক প্রতিষ্ঠা এবং আল-কুদস কমিটিতে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তার সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখতে পারেনি, এখন সেই আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ফেরার সময় এসেছে।
পররাষ্ট্রনীতির ৫টি মূল স্তম্ভ:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পাঁচটি মূলনীতির কথা উল্লেখ করেছেন:
১. সার্বভৌম সমতা।
২. পরস্পরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা।
৩. কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
৪. জাতীয় মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা।
৫. একতরফা নয়, বরং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান জানান, এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের নজরদারি ও তৎপরতা আগের চেয়ে আরও বাড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মিয়ানমার জান্তা ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যে যোগাযোগের সূত্রপাত হয়েছিল, তা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং একটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালানো হবে।
নিজের নিয়োগ ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়ে তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন, “আমি জোর করে আসিনি। পরিস্থিতি ও সময় সব বদলে দেয়।” যারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছেন, তাঁদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবারও গণনা করে দেখা যেতে পারে। তিনি গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুজব রোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং কূটনীতিকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ও জনমুখী করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য যে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বর্তমানে চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এই সফরকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।