বৃহত্তর জৈন্তিয়ার শোকাতুর বিদায়: চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ
হাজার হাজার সুধী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীকে অশ্রুসিক্ত নয়নে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন সদস্য ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সিলেটের সারীঘাট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে তার পৈতৃক নিবাস রনিফৌদ গ্রামের পঞ্চায়েতী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই কর্মবীর বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সিলেটের ওয়েসিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুমের জানাজায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জানাজায় অংশগ্রহণ করে শোক প্রকাশ করেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহ উদ্দিন এবং সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম ইয়াহিয়া চৌধুরী সুহেল ও সেক্রেটারি জুবায়ের বখত জুবের। এছাড়াও বারের সাবেক সভাপতি এ কে এম সামিউল ইসলাম, সাবেক পিপি নুরুল হক, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমদ এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। জানাজায় সাংবাদিক সমাজ ও প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তিনি দলমত নির্বিশেষে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে কিছুদিন আগে অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদের ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। গত মঙ্গলবার হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন যারা তার আদর্শকে ধারণ করে বেঁচে থাকবেন। পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ ও সাহসী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন যা সিলেট বারের ইতিহাসে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
পরিশেষে বলা যায় যে মানুষের পার্থিব দেহ চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শই তাকে বাঁচিয়ে রাখে যুগের পর যুগ। অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন যিনি আইন পেশার বাইরেও সমাজসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। সারীঘাটের এই বিস্তীর্ণ জনপদে আজ যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তা কেবল একজন ব্যক্তির চলে যাওয়া নয় বরং একটি বটবৃক্ষের পতন। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয় কিন্তু তার শেখানো নীতি ও মানবিকতা এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার প্রদীপ হয়ে জ্বলবে চিরকাল। কারণ প্রকৃত মানুষ কখনো মরে না তারা বেঁচে থাকে অন্যের উপকারের মাঝে।